এল এম সি পোর্টাল

সমন্বিত কৃষি ইউনিট   প্রাণিসম্পদ খাত

কর্মকান্ড

প্রযুক্তি সম্প্রসারণ

জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নঃ বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদের বেশ কিছু সম্ভাবনাময় জাত রয়েছে। এসব জাতের বিশেষ কিছু গুণাবলী রয়েছে যেমন: দেশি আবহাওয়ায় অভিযোজনক্ষম, বাচ্চা উৎপদনের ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্থানীয় সহজলভ্য খাদ্য ব্যবহারের দক্ষতা, স্বল্প বিনিয়োগে খামারের টেকসহিতা, স্বল্প জায়গায় বেড়ে ওঠার ক্ষমতা ইত্যাদি। মূলত দেশিয় জাতের প্রাণীসমূহ তাদের বিদ্যমান কৌলিক সক্ষমতা (Genetic Qualit) পুরোপুরি প্রদর্শন করতে পারছে না। বিদেশ হতে অধিক উৎপাদনশীল Exotic প্রাণী আমদানী, খামারীদের প্রাণী পালনের জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব ইত্যাদির ফলে স্থানীয় জাতের প্রতি আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে। এপ্রেক্ষিতে, পিকেএসএফ-এর ‘সমন্বিত কৃষি ইউনিটভুক্ত’ প্রাণিসম্পদ খাত স্বীকৃত ও সম্ভাবনাময় দেশিয় জাতের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগসমুহের আওতায় যেসব জাত নিয়ে কাজ করা হচ্ছে সেগুলো হলো ব্যাকবেঙ্গল ছাগল, দেশি উন্নত জাতের ও সংকর জাতের ভেড়া, রেড চিটাগাং ক্যাটল, দুম্বা, প্রচলিত জাতের পোল্ট্রি (হিলি মুরগি, মাসকোভি হাঁস), নিবিড় ফ্রি রেঞ্জিং পদ্ধতিতে দেশি মুরগির প্যারেন্টস্টক উৎপাদন, বন্যগরু বা গয়াল (Bos frontalis) পালন ইত্যাদি।

উৎপাদনশীলতার উন্নয়নঃ বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি পালন থেকে খামারীরা কাক্সিক্ষত উৎপাদন তথা আয় ও মুনাফা করতে পারছেন না। এর অন্যতম কারণ হলো আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রচলিত জাতের প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি পালন না করা। এপ্রেক্ষিতে, ‘‘সমন্বিত কৃষি ইউনিটভুক্ত’’ প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে সদস্য পর্যায়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রচলিত জাতের প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রির প্রদর্শনী খামার বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রদর্শনী খামারসমূহের মধ্যে রয়েছে আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাচায় ছাগল পালন, উত্তম ব্যবস্থাপনা চর্চা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গাভি পালন, ডিমের জন্য খাকি ক্যাম্পবেল/জিনডিং জাতের হাঁস পালন, সঠিক জীব-নিরাপত্তায় জলবায়ু সহিষ্ণু বাউ মুরগি/সোনালি মুরগি পালন, সঠিক জীব-নিরাপত্তায় হাইব্রিড লেয়ার মুরগি পালন, বাক সেন্টার স্থাপন/পাঁঠা মোটাতাজাকরণ, খোঁজা মোরগ মোটাতাজাকরণ, অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফডার উৎপাদন, নিবিড় পদ্ধতিতে খাসি মোটাতাজাকরণ, বিশেষ আবাসন নিশ্চিত করে দেশি মুরগি পালন ইত্যাদি।

জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাত সহিষ্ণু জাতের সম্প্রসারণঃ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি, শীতকালে অধিক শীত, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ইত্যাদির পরিবর্তনের ফলে দেশি, হাইব্রিড এবং বিদেশ হতে আমদানিকৃত প্রাণিসম্পদের জাতসমূহের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসহ আর্থিক বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে এ খাত হতে যথাযথা মুনাফা অর্জিত হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় বর্ণিত বিষয়সমূহকে সম্বোদ্ধন করে প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি যেমন: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত বাউ (BAU-Chicken) মুরগি পালন, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত সুবর্ণ মুরগি ও লবণাক্ত সহিঞ্চু ঘাস, দেশি মুরগি পালন, হিলি মুরগি পালন, মাসকোভি হাঁস, রাজহাঁস, হাইড্রোপনিক ফডার, ইতাদি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

সম্ভাবনাময় নতুন জাতের সম্প্রসারণঃ সাম্প্রতিক সময়ে পালনকৃত হাইব্রিড পোল্ট্রি বিশেষতঃ ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং খাবারের মূল্য বেশি হওয়ায় তা অধিকাংশ সময়ে সদস্য পর্যায়ে লাভজনক হচ্ছে না। এ প্রেক্ষিতে, পোল্ট্রি-এর জাতসমূহের মধ্যে তুলনামূলক অধিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উচ্চ খাদ্য রূপান্তরের হার (Feed Covertion Ratio) সম্পন্ন পোল্ট্রি যেমন: বাউ মুরগি, সুবর্ণ মুরগি, পেকিন হাঁস, টার্কি ইত্যাদি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, বিশেষ ঔষধি গুণসম্পন্ন জাতের যেমন: কাদাকনাথ মুরগি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন প্রযুক্তির সম্প্রসারণঃ নিরাপদ খাদ্য বলতে এমন খাদ্যকে বুঝানো হয় যা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করলে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকবে না। প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় নিরাপদ মাংস ও ডিম উৎপাদনের জন্য সঠিক জীব-নিরাপত্তায় অনুসরণীয় বিষয়সমূহ যেমন: মুরগি পালনকালীন মেয়াদে অতিমাত্রায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ঔষধ এর ব্যবহার না করা, ঔষধ ব্যবহারের পর সঠিক প্রত্যাহার কাল (Withdrawal Period) অনুসরণ করা, নিম্নমানের মুরগি-খাদ্যের (খাদ্যে ক্ষতিকর বিভিন্ন ভারি ধাতুর উপস্থিতি যেমন: ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, লেড এবং ক্যাডমিয়াম) ব্যবহার না করা ইত্যাদি নিশ্চিত করে হাইব্রিড মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়াও, গরু ও খাসি মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ঔষধ ব্যবহার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণঃ বাজারে বিদ্যমান প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রির খাদ্যের অধিক দাম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো উক্ত খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত খাদ্য উপাদানের অধিক ক্রয়মূল্য। এর ফলে উৎপাদিত প্রাণিসম্পদের দাম বেশি হয়ে থাকে। প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় বিভিন্ন শস্য উপজাতকে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। এক্ষেত্রে, বিভিন্ন শস্য উপজাতের মধ্যে রয়েছে ভূট্টার মোচা, খড় ইত্যাদি। প্রক্রিয়াজাতকৃত প্রাণি খাদ্য তালিকায় রয়েছে সাইলেজ, টিএমআর, ইউএমসিসি, ইউএমএস, ইউটিএস, চপট্ স্ট্র ইত্যাদি।

প্রাণিসম্পদ ভিত্তিক ঊপকরণ উন্নয়ন: প্রাণিসম্পদের ফার্মিং ক্লাস্টারে নিরবিচ্ছন্ন প্রাণিসম্পদ ভিত্তিক ঊপকরণ যেমন: বাচ্চা বিশেষতঃ পেকিন হাঁস, মাসকোভি হাঁস, রাজহাঁস, দেশি মুরগি ইত্যাদি সরবরাহের লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষি ইউনিটের আওতায় বিভিন্ন সক্ষমতার প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম হ্যাচারি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এসব হ্যাচারিতে উৎপাদিত গুণগতমানসম্পন্ন বাচ্চা ইউনিটের কর্মএলাকাসহ ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

পণ্য ও উপজাত উন্নয়নঃ প্রাণিসম্পদ ভিত্তিক পণ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে দুধ, ডিম ও মাংস। মাংসের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল হলেও দুধ ও ডিমের বাজার স্থিতিশীল নয়। এপ্রেক্ষিতে, প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় পারিবারিক ও আধাবাণিজ্যিক পর্যায়ে দুধ হতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসম্মত ও গুণগতমানসম্পন্ন দুগ্ধজাত পণ্য যেমনঃ টাফি, ফ্লেভার্ড মিল্ক, পনির, সফট চিজ (Soft cheese), প্রসেস চিজ (Process cheese), বাটার (Butter), ঘি ইত্যাদি উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হচেছ। এছাড়াও, প্রাণিসম্পদ হতে প্রাপ্ত উপজাত যেমন: গোবর ব্যবহার করে তা হতে কেঁচো সার উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্যের উন্নয়নসহ আয়ের একটি খাত হিসেবে কেঁচো সার প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করণে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক কার্যক্রমঃ তামাকের পরিবর্তে ফসল চাষে কৃষি ইউনিট হতে সহায়তার পাশাপাশি সদস্যদের বহুমুখী আয়ের উৎস সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় টার্কি পালন, সঠিক জীব-নিরাপত্তায় হাইব্রিড বাউ মুরগি পালন, মাংসের জন্য পেকিন জাতের হাঁস পালন, আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাচায় ছাগল পালন, গরু মোটাতাজকরণ এবং উন্নত পদ্ধতিতে গাভি পালন বিষয়ক প্রদর্শনী বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস, কৃষক সভা, সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন প্রকাশনা প্রণয়ন, ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও জেলা পর্যায়ে কর্মশালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা

প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় সদস্য পর্যায়ে পালনকৃত গৃহপালিত প্রাণীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে রোগ প্রতিরোধের নিমিত্ত বিভিন্ন টিকা এবং গরু, ছাগল ও ভেড়ার জন্য কৃমিনাশক বোলাস বিতরণ করা হয়। টিকাসমূহের মধ্যে রয়েছে ছাগল/ভেড়ার PPR, মুরগি/হাঁসের RDV/BCRDV/Duck Plague এবং গর্ভবতী/দুগ্ধবতী গাভির (১-৬ মাস বয়সী বাছুর আছে) জন্য FMD, গরুর Anthrax/HS/BQ টিকা এবং গরু ও ছাগল/ভেড়ার জন্য কৃমিনাশক বোলাস। এক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংস্থা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় হতে PPR, Anthrax I RDV/BCRDV/Duck Plague টিকা; স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি হতে FMD (ন্যূনতম trivalent) টিকা এবং কৃমিনাশক বোলাস (Triclabendazole INN 900mg & Levamisole BP 600mg) ক্রয় করে থাকে। এসকল টিকা ও বোলাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে গুণগতমান নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও, গাভির ওলান প্রদাহ (Mastitis) রোগ প্রতিরোধ এবং পোল্ট্রিতে রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য যথাক্রমে সিএমটি কিট (California Mastitis Test Kit) ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

পণ্য ও উপজাত বিপণন

প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় পণ্যের উৎপাদনশীলতার উন্নয়ন ও বাজার সংযোগ কার্যক্রমকে সহজীকরণের লক্ষ্যে Cluster Based Value Chain Hub (CVH) মডেল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই মডেলের মূল উদ্দেশ্য হলো ফার্মিং ক্লাস্টার ও প্রযোজ্যক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডার গড়ে তোলা এবং তাদের মাঝে কার্যকর লিংকেজ স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের সফল বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা। এই মডেলটি কমিউনিটিভিত্তিক হাব অ্যাপ্রোচ অনুসরণে নতুন ও চলমান পণ্যের বাজারজাত সহজীকরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের টেকসই উন্নয়নে ফলপ্রসূ ভ‚মিকা রাখবে। সমন্বিত কৃষি ইউনিটের সফল (CVH) মডেলগুলির মধ্যে রয়েছে পেকিস হাঁস, বাউ মুরগি ইত্যাদির (CVH) মডেল।

প্রাণি খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি

মানব দেহে প্রাণীজ আমিষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়সভেদে মানবদেহে প্রাণীজ আমিষের প্রয়োজনীয়তার ভিন্নতা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাদ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় দুগ্ধজাত পণ্য এবং ডিম বিষয়ে ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হচ্ছে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি

প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় সংস্থার মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা, চলমান প্রদর্শনী খামার দক্ষতার সাথে পরিচালনা করা, নতুন প্রযুক্তিসমূহ সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষাদান, পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ, খামারী পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি এবং উৎপাদিত পণ্য সফলভাবে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে সদস্য প্রশিক্ষণ, খামার দিবস, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মশালা, বাজার সংযোগ কর্মশালা, পরিকল্পনা সভা, অবহিতকরণ কর্মশালা ইত্যাদি করা হয়ে থাকে। সম্ভাবনাময় খামারীদের উদোক্তা পর্যায়ে উন্নয়নের জন্য আবাসিক পর্যায়ের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও বাস্তবায়না করা হয়ে থাকে। এছাড়াও, সদস্য পর্যায়ে পালনকৃত প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রিতে টিকাসহ অন্যান্য কারিগরি সেবা সহজলভ্যভাবে নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কারিগরি সেবা দিতে পারবে এমন নির্বাচিত সদস্যদেরকে প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় ‘‘লাইভস্টক এন্ড পোল্ট্রি সার্ভিস প্রোভাইডার (এলপিএসপি)’’ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। বর্ণিত কার্যক্রমসমূহের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজুয়াল এইড-এর ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও, খামারী প্রশিক্ষণসমূহ সফল খামারীর খামারে আয়োজন করার পাশাপাশি ভিডিও প্রশিক্ষণ মডিউল প্রদর্শন করা হয়। সহযোগী সংস্থা পর্যায়ে প্রস্তাবিত বরাদ্দের বিপরীতে প্রদর্শনীর সংখ্যা ও প্রশিক্ষণ চাহিদা নিরূপণপূর্বক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় সহযোগী সংস্থা পর্যায়ে কর্মরত কারিগরি কর্মকর্তাবৃন্দ যারা সদস্য পর্যায়ে কারিগরি সেবা প্রদান করে থাকেন তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর আয়োজন করা হয়ে থাকে।