এল এম সি পোর্টাল

সমন্বিত কৃষি ইউনিট   প্রাণিসম্পদ খাত

তথ্য হাব

প্রচারণা

প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় যেসব প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে সেগুলোর টেকসহিতা, সফল প্রতিরূপায়ন, প্রযুক্তির সুবিধাসমূহ অন্যান্য সদস্যদের অবহিত করা, বাজার সংযোগে ভূমিকা রাখা ইত্যাদির লক্ষ্যে সংস্থাসমূহের মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তিভিত্তিক তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড স্থাপন, মিডিয়া কাভারেজ, এবং প্রযুক্তি দৃশ্যায়ন করা হচ্ছে।

প্রকাশনা

সংস্থা ও সদস্য পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় ‘‘ এনথ্রাক্স (তড়কা) রোগ হতে সচেতন হউন’’, ‘‘মুরগির খামারে বার্ড ফ্লু প্রতিরোধ”, ‘‘এফএমডি (ক্ষুরা) রোগ হতে সচেতন হউন”, ‘‘পিপিআর রোগ প্রতিরোধ করুন”, ‘‘অধিক মাংস উৎপাদনশীল ব্রাহমা জাতের গরু পালন’’, ‘‘গরু মোটাতাজাকরণ এবং কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে করণীয়’’, ‘‘কালার ব্রয়লার মুরগি পালন’’, ‘‘অধিক মাংস উৎপাদনশীল জাতের ব্রয়লার হাঁস পালন’’, ‘‘জীব-নিরাপত্তাঃ নিরাপদ পোল্ট্রিজাত পণ্য উৎপাদন ও লাভজনক বাণিজ্যিক মুরগি পালনে কার্যকর হাতিয়ার’’, ‘‘পারিবারিক পর্যায়ে দেশি মুরগির আধা-বাণিজ্যিক পালন’’, ‘‘দেশি উন্নত জাতের ভেড়া পালন’’, ‘‘স্টিয়ার ক্যাটল ফ্যাটেনিং’’, ‘‘তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক কার্যক্রম’’, ‘‘টার্কি পালন’’, ‘‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং ফসল ও সবজির ফলন বৃদ্ধিতে কেঁচো সার’’, ‘‘নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন’’, ‘‘মোজারেলা চিজ ’’ ইত্যাদি বিষয়ক পোস্টার, ফোল্ডার, লিফলেট ও নির্দেশনাপত্র প্রস্তুত করে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি খামারী প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে সহায়ক উপকরণ হিসেবে বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক যেমন: দেশি মুরগি পালন, ভেড়া পালন, ছাগল পালন, সোনালী মুরগি পালন ইত্যাদি ভিডিও ডকুড্রামা, ডকুমেন্টারি, রিল, টিজার, ফটোভিডিওগ্রাফি প্রস্তুত করা হয়েছে।

গবেষণা

প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসকল কার্যক্রমের যৌক্তিকতা, লাভজনজকতা, খামারী পর্যায়ে প্রযুক্তির প্রভাব, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও অভিজ্ঞ গবেষক দ্বারা মূল্যায়ন করা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

প্রাণিসম্পদ খাতের ডিজিটালাইজেশন

প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় বাস্তবায়নাধীন সকল প্রকারের কার্যক্রমের টেকসহিতার জন্য অনসাইট ও অফসাইট মনিটরিং অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপ্রেক্ষাপটে, সমন্বিত কৃষি ইউনিট-এর প্রাণিসম্পদ খাত LMC (Learning, Communication & Monitoring) Portal নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল প্লাটফর্ম উন্নয়ন করেছে। এছাড়াও, প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় সম্প্রসারিত প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে TIG (Technology Implementation Guideline) Portal নামে আরো একটি বিশেষ ডিজিটাল প্লাটফর্ম রয়েছে।

নেটওয়ার্কিং

নীতি নির্ধারণী বিষয়কঃ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক বিভিন্ন নীতিমালা যেমন: জাতীয় প্রাণিসম্পদ পুষ্টি, মহিষ উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য, প্রাণী প্রজনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি প্রণয়নে পিকেএসএফ-এর প্রাণিসম্পদ খাত সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শিক্ষা ও প্রয়োগিক গবেষণা বিষয়কঃ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষতঃ কৃষি বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধে পিকেএসএফ-এর প্রাণিসম্পদ খাত উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্ণশিপ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। এছাড়াও, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ভ্যালিডেশনের জন্য সমন্বিত কৃষি ইউনিটভুক্ত প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী খামারী পর্যায়ে প্রায়োগিক গবেষণায় যেমন: বাউ মুরগি, লবণাক্ত সহিষ্ণু ফডার, রূপালি হাঁস ইত্যাদি সহায়তা করা হয়ে থাকে।

উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়কঃ প্রাণিসম্পদ খাত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত খামারসমূহে তাদের চাহিদা ও অনুরোধের প্রেক্ষিতে কারিগরি সহায়তা যেমন: খামারের ডিজাইন, প্রাণীর উৎস বিষয়ে ধারণা প্রদান, প্রাণী ব্যবস্থাপনিক পরামর্শ সেবা ইত্যাদি প্রদান করে থাকে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিষয়কঃ প্রাণিসম্পদের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার যেমন: টিকা ও ঔষধ প্রস্তুত ও সরবরাহকারী, সিমেন সরবরাহকারী ইত্যাদির সাথে প্রাণিসম্পদ খাত নিয়মিতভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে যাতে করে মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ, ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পসহ অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।

অভিঘাত

সদস্য পর্যায়েঃ প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রমসমূহের ফলে প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন প্রযুক্তিসমূহের যেমন: ছাগল পালন, গাভি পালন, ভেড়া পালন, লেয়ার মুরগি পালন ইত্যাদির বাস্তবায়নে পূর্বের তুলনায় যথাক্রমে ৫৪%, ৩৬%, ২০% ও ৬১% কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও, ইউনিটের আওতায় প্রদর্শনী খামার বাস্তবায়নকারী খামারীরা ১০-১২টি ছাগল পালন করে মাসে প্রায় ২,৫০০/- টাকা হতে ৫,০০০/- টাকা, ৫০০টি বাউ মুরগি পালন করে মাসে প্রায় ১৫,০০০/- টাকা হতে ২০,০০০/-, ২০০টি পেকিন হাঁস মাংসের জন্য পালন করে মাসে প্রায় ৮,০০০/- টাকা হতে ১২,০০০/- টাকা মুনাফা পাচ্ছেন যা অন্যান্য খামারীর তুলনায় বেশি। সার্বিকভাবে, প্রাণিসম্পদ খাতের কার্যক্রম খামারের উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান এবং আয়বৃদ্ধিতে দৃষ্টিগ্রাহ্য অভিঘাত সৃষ্টি করছে।

সংস্থা পর্যায়েঃ সংস্থা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ খাতের কার্যক্রমের ফলে সংস্থার সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহে প্রাণিসম্পদ ভিত্তিক খাতে ঋণের বিতরণ, নিয়মিত আদায়, ঋণস্থিতি ও নতুন সদস্য ভর্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট শাখার সদস্যদের প্রাণিসম্পদ বিষয়ে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা প্রদানের ফলে বিতরণকৃত ঋণসমূহের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারিগরি সহায়তা প্রাপ্ত সদস্যের মাঝে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি আস্থা গড়ে উঠেছে এবং কর্মএলাকায় কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী সংস্থাটির সুনাম এবং বিবিশ্বস্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পিকেএসএফ পর্যায়েঃ প্রাণিসম্পদভিত্তিক আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডসমূহ ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পিকেএসএফ-এর অন্যতম লক্ষ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জাতীয় পর্যায়ে পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধিতে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে। এছাড়াও, প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় দক্ষ জনবল তৈরি, জনবলের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপকরণের সহজলভ্যতা, প্রাণিসম্পদ কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে পারস্পরিক সংযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করার মাধ্যমে তাদের প্রদেয় সেবাসমূহ ব্যবহার ও মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণে সহায়তা ইত্যাদি নিশ্চিত হচ্ছে। এসকল কার্যক্রম পিকেএসএফ-এর মূলস্রোত ঋণ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে ভ‚মিকা রাখছে। এছাড়াও, ‘সমন্বিত কৃষি ইউনিট’ভূক্ত প্রাণিসম্পদ খাত পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন প্রকল্পে প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণসহ কারিগরি বিষয়ে সহায়তা প্রদান করছে।